बांग्ला अनुवादः मुरली चौधरी
“সাহেব! একটু মিছরি বা গুড় পাওয়া যাবে কি? আজ রুটি আনতে পারিনি। বাড়ি পৌঁছাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে।”
— ঠিকাদার চলে যেতেই, বাড়ির সামান্য মেরামতির কাজে আসা সেই দিনমজুর লোকটি, বাড়ির মালিককে বাইরে আসতে দেখে বলল।
“হ্যাঁ… হ্যাঁ… কেন নয়… দু’মিনিট দাঁড়াও। এখনই নিয়ে আসছি।”
— তার বসে যাওয়া চোখ আর শুকনো ঠোঁট থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রমেশবাবু বললেন।
দুপুরের খাবার রমেশবাবু খেয়ে ফেলেছিলেন; তাই ডাইনিং টেবিলে রাখা ক্যাসারোলগুলো খালি ছিল। আজই তিনি কাজের বউকে দিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করিয়েছিলেন; নইলে কিছু বাসি খাবার হলেও পাওয়া যেত।
“চলো, চার চামচ সত্তু গুলে দিই—ও বেচারার জন্য।”
— রমেশবাবু লবণ, মরিচ আর লেবু দিয়ে যত্ন করে এক গ্লাস সত্তুর শরবত বানালেন।
স্টিলের গ্লাসটা তাঁর হাত থেকে নিয়ে সেই দিনমজুর এক নিশ্বাসে সত্তু শেষ করে ফেলল। তারপর একটা মলিন বোতল থেকে জল ঢেলে গলা দিয়ে নামিয়ে নিল—তৃপ্ত হতে থাকা মনটাকে যেন আরও একবার ঝাঁকিয়ে নিল।
রমেশবাবু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।
“ঠিক আছে সাহেব, তবে চলি। কাল সকাল আটটার মধ্যে এসে যাব। হ্যাঁ, রুটি নিয়ে আসব। আমার বউকে ভগবান খুব তাড়াতাড়ি ডেকে নিয়েছেন সাহেব! এখনও অভ্যাস হয়নি—ওকে ছাড়া থাকতে!”
— ভারী গলায় বলতে বলতে হাতজোড় করে সে বেরিয়ে গেল।
তখনই রমেশবাবুর খেয়াল হলো—সত্তুর ডিব্বার ঢাকনাটা এখনও তাঁর হাতেই। তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে ডিব্বাটা ওপরের তাকেতে তুলতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল—ডিব্বার গায়ে স্ত্রীর হাতের লেখা ঝাপসা একটা শব্দ: ‘বেসন’। তিনি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তাঁর সামনে ভেসে উঠল দু’টি মুখ—
একটি, সেই ক্ষুধার্ত দিনমজুরের, যে বেসনকে সত্তু ভেবে খেয়েও ফেলল, যার দারিদ্র্যের সঙ্গে অভ্যাস হয়ে গেছে;
আর অন্যটি, তাঁর স্ত্রীর—যাকে ভগবান কয়েক মাস আগেই নিজের কাছে ডেকে নিয়েছেন, আর যাঁকে ছাড়া বেঁচে থাকার অভ্যাস এখনও তাঁর হয়ে ওঠেনি।
-0-