— সন্দীপ ভাটনগর- अनुवादक-मुरली चौधरी-অনুবাদ করেছেন: মুরলী চৌধুরী
আভাসী সাম্রাজ্যের দরবার বসেছে। পূর্ণ জাঁকজমক নিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত মহারানী প্রযুক্তি। সমস্ত প্রাণীজগতের শাসক দ্বিপদ মানব, জীবনের প্রতি উদাসীন হয়ে মহারানীর শরণাপন্ন। মানুষের এক পাশে অনাহারে-ক্লিষ্ট, দুর্বল কিন্তু সুবুদ্ধি বসার চেষ্টা করছে। আর অন্য পাশে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে দুর্বুদ্ধি।
কৃত্রিম বুদ্ধি মহামন্ত্রীর পদে আসীন। দরবারের বাইরে জীবনের ঘোরাফেরা—ফরিয়াদ জানানোর একমাত্র আশায়।
মহারানী মহামন্ত্রীকে সতর্ক মোডে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিচার শুরু করার সংকেত দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে কারকুন দরবার হল থেকে বেরিয়ে ডেকে আনল জীবনকে। মুহূর্তের মধ্যেই জীবন ফরিয়াদ নিয়ে হাজির।
মহারানী বললেন, “বলুন, আপনার অভিযোগ কী?”
জীবন একবার মানুষের দিকে তাকিয়ে বলল, “কয়েকদিন ধরে কোনও মতে সময় কাটছিল। হঠাৎ দু’জন দুষ্কৃতকারী আবির্ভূত হয়ে বাঁচাই দুষ্কর করে তুলেছে।”
“কারা তারা?” প্রশ্ন মহারানীর।
জীবনের উত্তর দেওয়ার আগেই তার তথ্য ও ধ্বনি বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধি জানিয়ে দিল—“ফেক এবং ডিপফেক।”
“হ্যাঁ মহারানী,” জীবন বলল, “পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আসলকেও এখন নকল বলে সন্দেহ হয়। ওরা দু’জনই দুর্বুদ্ধির মানস সন্তান…”—বলতে বলতেই জীবন থেমে গেল।
মহারানী প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালেন। জীবন কৃত্রিম বুদ্ধির দিকে একপাশে তাকিয়ে মাথা নিচু করল। মহারানী অভয় মুদ্রায় তাকে আশ্বস্ত করলেন।
“থামলে কেন? বলো।”
জীবন আবার বলল, “ফেক আর ডিপফেক বলে বেড়ায় যে তারা মহামন্ত্রীর আশ্রয়ে আছে।”
দরবারে নেমে এল নিস্তব্ধতা।
“তোমার মানে—কৃত্রিম বুদ্ধি?” মহারানীর প্রশ্ন।
জীবন নীরবে সম্মতি জানাল।
কৃত্রিম বুদ্ধি আবেগহীন, তাই জীবনের দৃষ্টি তার কাছে পৌঁছাল না। মহারানী প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার খাতিরে অভিযোগগুলি ধ্বনি সংকেতের মাধ্যমে মহামন্ত্রীকে জানালেন।
কৃত্রিম বুদ্ধির বিশ্লেষণাত্মক জবাব—
“এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি নিজে কিছুই নই। লাভ-ক্ষতি, জীবন-মরণ, ভালো-মন্দ, আসল-নকল, ফেক-ডিপফেক, দুর্বুদ্ধি-সুবুদ্ধি—সবই মানুষের সৃষ্টি করা শব্দ ও প্রতিক্রিয়া। আমার কাছে যা আসে, যে যেমন চায়, সে তেমন ফলই পায়।”
মহারানী জীবনের দিকে তাকালেন। জীবন চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে। তর্কবুদ্ধির সঙ্গে পরামর্শের জন্য বিচার কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হল।
আবার দরবার বসলো। রায় শোনার আগেই জীবন হাল ছেড়ে দিয়েছে।
রায়ে ফের দোষী সাব্যস্ত হলো সেই দ্বিপদ মানবই।
রায় শুনে সুবুদ্ধি মানুষকে জাগাতে চাইল, ব্যর্থ হলো। দরবার ভেঙে গেল।
জীবন ক্লান্ত পায়ে বাইরে বেরিয়ে এল।
মানুষকে আঁকড়ে ধরে দুর্বুদ্ধি কুটিল হাসি হাসল।
আর সুবুদ্ধি মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে চলে গেল।
-0-চন্দননগর, হুগলী (কোলকাতা)।