ডক্টর সুষমা গুপ্তা (হরিয়ানা) / बांग्ला अनुवाद:बेबी सिंह कोरनफोरमा
“কাল আমার কোমরে খুব ব্যথা ছিল।”– মোহনদাস একটা কাঠের তক্তায় বসে রামদীন মুচিকে দিয়ে জুতো ঠিক করাতে করাতে বললেন।
“চামড়ার কত দাম বেড়ে গেছে” রামদীন জুতো সেলাই করতে করতে বলল।
“কাল সকালে আমাকে দপ্তর যেতে হবে পেনশন নিতে। খুব লম্বা লাইন হবে । রামদীন এতো ব্যথা নিয়ে কিকরে যে লাইনে দাঁড়াবো?” মোহনদাসবাবু নিজের দুঃখের কথা শোনালেন।
“এই জুতোটা আর বেশি ঠিক করা যাবে না, নিচেটা পুরো ক্ষয়ে গেছে।” রামদীন ঝট করে বলে দিল।
“আমার তো পায়ের পেশির টান পড়ে, বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে। তুই কি জানিস ওখানে বসারও কিছু নেই ।”
“আজ তো যেমন–তেমন করে ঠিক করে দিলাম। এবার নতুন নিয়ে নিন।”
“হুম” পয়সা দিয়ে মোহনদাস নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
ঘর থেকে মুচির দোকান পরিষ্কার দেখা যায়। বারন্দায় দাঁড়িয়ে ছেলের বউ ওনাকে দেখে মুখ ফুলিয়ে একটা খবরের কাগজ নিয়ে বসে গেল।
“তুমি বাবাকে কেন মানা করো না! রোজই কিছু না কিছু বাহানায় উনি রামদীন মুচির কাছে গিয়ে বসে পড়েন। এই বয়সে ছোটলোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা কি ওনার শোভা পায়?”
“আরে সীমা, বেকার হাঙ্গামা করো না। বাবা রিটায়ার্ড মানুষ ,তেমন কোন কাজকর্ম নেই। মা চলে যাবার পর বাবা একদমই একা হয়ে গেছে। এখন তুমি আর আমি অফিস চলে যাই, বাবার সময় কাটে না তাই সেও একা হাঁপিয়ে ওঠে।”
“তাই বলে সময় কাটাতে মুচির কাছে গিয়ে বসে থাকবে? পার্কেও তো যেতে পারে”– সীমা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলল।
“হ্যাঁ তা যেতে পারে, তবে এই বয়সে ওনার অভ্যাস তো বদল হওয়ার নয়।”
“অভ্যাস? মানে? মুচির সাথে কথা বলা!”
“আরে মুচির সাথে নয়, মায়ের সাথে। মা তুমি আসার আগেই চলে গেছেন, তাই তুমি মা–বাবার কেমেস্ট্রি দেখোনি। বাবা সারাদিনের অফিসের লেখালেখির গল্প মাকে শোনাতেন আর মা নিজের সুরে সারাদিনের কাজকর্মের কাহিনী বাবাকে শোনাত। দুজনের কথার কোন তালমিল ছিল না, তবুও অনবরত যেযার নিজের সমস্যার শোনাতেই থাকতো।
সারা দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত কতকিছুই না ঘটে চলেছে কিন্তু বাবা জুতোর দুনিয়ায় দিব্যি আছে।”
সীমা বারন্দায় বসে একবার বাবাকে দেখল আর একবার গেটের বাইরে বসে থাকা রামদীনকে দেখল তারপর বৈঠকখানায় লাগানো শাশুড়ির ছবির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বিড়বিড় করে বলল “ একেই বলে কেমেস্ট্রি ।”
-0-
লেখক পরিচিতি–
জন্ম ১৯৭৬। শিক্ষা– এম কম, এম বি এ, এল এল বি, পি এইচ ডি। প্রকাশিত গ্রন্থ ‘উম্মিদ কা দুকরা’ (কাব্য গ্রন্থ), ‘তুমারি পিট পর লিখা মেরা নাম’ (গল্প সমগ্র)। ২০১৭ তে সাগর সম্মান ও নেশন প্রাউড এ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৮ তে হরিয়ানা সাহিত্য একাডেমীর প্রথম পুরষ্কার বিজয়ী। এছাড়া বহু সম্মানে সম্মানিত।