রমেশ বাত্রা
অনুবাদ: মুরলী চৌধুরী
সকালে থেকেই বসের মেজাজ খুব খিটখিটে ছিল। সামান্য কথাতেই তিনি দাঁত কিড়মিড় করছিলেন। বাবু রামসহায়কে ছাড়া ম্যানেজার থেকে শুরু করে চপরাসি পর্যন্ত সবাইকে তিনি ভালোমতো ধমক দিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে অফিসের সবাই একটু আতঙ্কিত ও অস্থির হয়ে বসে ছিল।
দুপুরের পর বস, বাবু রামসহায়কে ডাক পাঠালেন। খবরটা ছড়াতেই সবার কান খাড়া হয়ে গেল— এবার বুঝি তারও বিপদ আসছে।
বাবু রামসহায় বসের কেবিনে গিয়ে অনুমতি না নিয়েই সামনে বসে পড়ল।
— দুপুরের রাম-রাম, জনাব!
— হ্যাঁ, বলো তো, আজ অফিসের খবর কী?
— জি, ম্যানেজার সবার সামনে বলছিল— বস নাকি আহাম্মক। ভুল নিজেই করে, দোষ দেয় আমাদের… একেবারে নালায়েক!
— হুঁ…
— অ্যাকাউন্ট্যান্ট… ওই মুন্সি… বলছিল— বস নিজে খায়, আমাদের খেতে দেয় না কেন? বেশি বাড়াবাড়ি করলে সব ফাঁস করে দেবে!
— হুম!
— হেড ক্লার্ক বলছিল— আজ মনে হয় বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছে, তাই এত রাগ দেখাচ্ছে।
— তোমার কী মনে হয়?
— জি, আসলে অল্প বয়সেই এত বড় পদে উঠে যাওয়ায় সবাই আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত।
— এরা সব আলস্য। কাজ করলে ওদেরও তো উন্নতি হতে পারত।
— জি, আমি একদিন এস.ডি.ও.-কে একটু খোঁচা দিতেই সে সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছে— আপনার উন্নতিতে নাকি আপনার স্ত্রীর বড় ভূমিকা আছে।
— তার এত সাহস! নিকৃষ্ট লোক! আমি তাকে শিক্ষা দিয়ে দেব!
— এরা খুব খারাপ লোক, বস। এদের কথায় কান দিলে নিজেরই মানহানি। আপনি নিজেই বুদ্ধিমান মানুষ। পৃথিবী তো সীতামাতাকেও ছাড়েনি।
— ঠিক আছে, তুমি একটু নজর রেখো।
ফিরে এসে সহকর্মীরা বাবু রামসহায়কে জিজ্ঞেস করল— কী হল?
বাবু রামসহায় মাঝ অফিসে দাঁড়িয়ে মাথা তুলে বলল—
— কিছু না। হারামিটা বুড়ো হয়ে গেছে… মরবে!
__________
অনুবাদ: মুরলী চৌধুরী
চন্দননগর, হুগলি। পশ্চিমবঙ্গ।
[