গিরীশ পঙ্কজ/ गिरीश पंकज
কাশিবাস/ काशिवास
अनुवाद/অনুবাদ –বেবী সিং কারফরমা/*बेबी सिंह कारफरमा*
বয়স্ক পিতা একদিন বলল, “ পুত্র শ্রবণ, কিছুদিন কাশীবাস করতে চাইছিলাম”

পুত্র খুব খুশি হল, স্ত্রীর চাপে সেও বহুদিন ধরে পিতার থেকে মুক্তি পাবার উপায় খুঁজছিল । সে তৎক্ষণাৎ তৎকাল টিকিট কেটে পিতাকে কাশী পৌঁছে দিল। পিতাও একটা ধর্মশালাতে জায়গা পেয়ে গেল। তিনি ছেলেকে আশীর্বাদ করে বললেন “কয়েকমাস তো থাকব, তারপর ফিরে যাবো।”
পিতাকে কাশী ছেড়ে পুত্র ফিরে এসে স্ত্রীর বুদ্ধিতে রাতারাতি ঘর বদলিয়ে, অন্য শহরে গিয়ে বসবাস শুরু করে দিল। চলভাষের নম্বরও বদলিয়ে ফেলল।
একদিন পিতার খুব শরীর খারাপ হল। দেখাশোনা করার কেউ ছিল না তাই মন আনচান লাগল আর হটাৎই ফিরে এলেন, কিন্তু আদর্শনগরে তাঁর পুত্রকে খুঁজে পেলেন না। আশেপাশে জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু কারোরই জানা ছিল না তাঁর ছেলে এখন কোথায় আছে!

অভুক্ত-পিপাসিত পিতা হন্যে হয়ে তাঁর পুত্রের খোঁজ করতে লাগলেন আর একদিন …….. খবরের কাগজে একটা খবর বের হল – ‘এক বৃদ্ধ ব্যক্তির মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসাবে রেললাইনের পাশে পড়ে আছে। ওনার মুঠোতে একটা চিরকুট পাওয়া গেছে যেখানে লেখা আছে ‘শ্রবণকুমার, ২/১৫, আদর্শনগর, রায়পুর’। শ্রবণ কুমারকে অনেক খোঁজা হয়েছিল কিন্তু পাওয়া যায়নি। শেষে কলোনির লোকেরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে বৃদ্ধের অন্তিম সংস্কার করেছেন।
অনুবাদ – বেবী সিং কারফরমা
*बेबी सिंह कारफरमा*
-0-
গিরীশ পঙ্কজ
জন্ম-১ নভেম্বর, ১৯৫৭ (বেনারস), শিক্ষা- ছত্তিসগড়, রায়পুরের অনেকগুলো পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১১ টি উপন্যাস, ২৭ ব্যঙ্গ সংগ্রহ, ৪ টি কাহানি সংগ্রহ, ৭ টি গজল সংগ্রহ, ২ টি লঘু কথা সমেত বেশ কয়েকটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যঙ্গ লেখার জন্য দিল্লীর ‘হিন্দি ভবন’ থেকে ‘ব্যঙ্গশ্রী’ সম্মানে সম্মানিত। এছাড়াও প্রসিদ্ধ ব্যঙ্গকার গিরীজ পঙ্কজ জী ‘অট্টহাস’ সাহিত্য সম্মান ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তিরিশটি সাহিত্য পুরস্কারে সম্মানিত।