মূল লেখক – রামেশ্বর কম্বোজ
অনুবাদ -আরতি চন্দ (अनुवाद-आरती चन्द)
এই শহরে আমি এক্কে বারে নতুন এসেছি । এক্কে বারে অচেনা অনেক দৌড় ধূপ করে পাশের পাড়াতে বাড়ি খুঁজে নিয়েছি । পরশু দিনই পরিবার কে ও নিয়ে এসেছি । কথায় – কথায় অফিসে জানাজানি হয়ে গেছে যে আমি পাশের পাড়াতে ঘর ভাড়া নিয়েছি । অফিসের বড় করতে ভুরু কুঁচকে বললেন ….
” পরিবার নিয়ে আপনি ওই পাড়াতে বসবাস করতে পারবেন ?
” কেন স্যার কিছু ভুল হল কি ? ” আমি হড়বড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ।
” পাড়া টা একেবারেই বাজে ,প্রতিদিন গন্ডগোল লেগেই আছে । খূব সাবধানে থাকতে হবে । ” সাহেবের কপালে চিন্তার রেখা ।
” ওই পাড়াটা এক্কেবারে বদনাম পাড়া । গুন্ডাগার্দি লেগেই আছে । ”
কোনো মতে নিজের চেয়ারে এসে বসতে না বসতেই বড় বাবু এসে উপস্থিত …..
” আপনি ওই বাজে পাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন ? “
” মনে হচ্ছে কাজটা ঠিক করিনি ? ” অনুশোচনার সুরে বললাম ।
” হ্যাঁ স্যার একেবারেই ঠিক করেননি । ওই পাড়া টা বসবাসের যোগ্য নয় , যত তাড়াতাড়ি পারেন বদলে ফেলুন ।” নিজের অভিজ্ঞ চোখ আমার চোখে রেখে বললেন ।
এই পাড়ায় এসে আমিও খূব চিন্তায় পড়ে গেছি । ঘরের সামনে পান , বিড়ি , সিগারেটের দোকান , গুমটি গুমটির কালো গোঁফওয়ালা এক্কেবারে নামি গুন্ডা মনে হয় । সারাক্ষন ওর তাম্বুল চর্বিতে মুখ আরো বীভৎস লাগে ।
সত্যি – সত্যি আমি খূব খারাপ জায়গায় এসে পড়েছি । আমার চোখে রাতে ঘুম এলোনা । ছাদের উপর কারো লাফিয়ে পড়ার শব্দ ভয়ে আমার প্রাণ নখের ভেতর ঢুকে গেল । কাঁপতে – কাঁপতে নিজের পা টিপে – টিপে বাইরে এলাম , বুক ধড়ফড় করছে । দেখি ছাদের কার্নিশের উপর বেড়াল বসে আছে ।
আজ দুপুরে বাজার থেকে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছি , চোখ লেগে এসেছে । কিছুক্ষনের মধ্যেই দরজায় ধপধপ আওয়াজ । দরজা খোলাই ছিল , আমি হড়বড়িয়ে উঠে বসলাম । দেখি সামনের গোঁফওয়ালা পান দোকানী দাঁড়িয়ে হাঁসছে । সুনসান দুপুর , আমার হাত – পা ঠান্ডা ।
” কি ব্যাপার ? ” আমি জিজ্ঞাসা করলাম ।
” মনে হয় আপনারই ছেলে চকলেট নিতে এসেছিল আমার কাছে । ” ও আমায় এই প্যাকেট টা দিয়ে এসেছিল । ” বলতে – বলতে একশো টাকার নোট আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । আমি চমকে উঠলাম , এই একশো টাকার নোটটা আমার পকেটে ছিল , হাতড়ে দেখি পকেট খালি । মনে হচ্ছে মোনু আমার পকেট থেকে একশো টাকাটা বের করে নিয়েছে ।
” চকলেটের কত দাম ? “
” মাত্র পঞ্চাশ টাকা , এই পয়সা আর কখন নিয়ে নেব । ” বলে কচর – কচর করে পান চাবাতে – চাবাতে হাসল । ওর অম্লান হাসিতে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল ।
” আচ্ছা বাবু প্রনাম ” বলে সে চলে গেল । আমার মাথা থেকে একটা বিরাট বোঝা নেমে গেল ।
0000000