মূল লেখক : সতীশরাজ পুষ্করণা, (অনুবাদ : সাংবাদিক মুরলি চৌধুরী)
রাত তিনটে বাজে… সে অপেক্ষা করছিল স্বামীর জন্য… কিন্তু সে এখনও ফেরেনি। নিজের মনেই বলতে লাগল, “আজকাল তো দেখছি, ও ক’দিন ধরেই রাতভর বাইরে থাকে… অথবা অনেক রাতে ফেরে। জিজ্ঞাসা করলে বলে, ‘কোম্পানির কোনো অফিসার এসেছে, তার সঙ্গে মিটিং চলছে…’ কিন্তু স্বামীর এই উত্তর তাকে সন্তুষ্ট করতে পারছিল না। তার মনে সন্দেহ জাগে, স্বামী বুঝি কোনো অন্য মহিলার সঙ্গে যুক্ত আছে…”
অতএব সে ফোন করল ইংল্যান্ডে থাকা শাশুড়িকে এবং সব কথা জানাল। শাশুড়ি বললেন, “মা, সে এমন নয়… কিন্তু তাও এক কাজ কর, ওকে ফোন কর, আর দেখ কোথা থেকে ফোনটা রিসিভ করছে। হঠাৎ গিয়ে দেখে নে… সত্য–মিথ্যা সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
এ কথা শুনে সে ফোন করল স্বামীকে— “কখন ফিরবে বাড়ি?”
“আর চার–পাঁচ ঘণ্টা তো লাগবেই।”
এই কথা শোনামাত্র সে গাড়ি বার করল এবং পৌঁছে গেল স্বামীর লোকেশন অনুযায়ী গন্তব্যে। সেখানে গিয়েই দেখে… সত্যিই অফিসিয়াল মিটিং চলছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এক বিশাল ডিল নিয়ে আলোচনা করছেন। এটা দেখে স্ত্রীর বুকটা লজ্জায় গর্ত হয়ে গেল…
স্বামী জিজ্ঞাসা করল, “কী ব্যাপার মনাল?”
লজ্জায় ডুবে থাকা মুখ থেকে আস্তে করে বেরোল— “না, কিছু না।”
স্বামী বুঝে গেল, সে সন্দেহ করেছিল। তাই সে বলল—
“সমগ্র পৃথিবীটাই তো বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে।”
“হ্যাঁ।”
“বিশ্বাসের জন্ম হয় মানুষের জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই। সন্তান জন্মালে মা তাকে বলে— ‘বাবা, এ হল তোর পিতা।’ সন্তান সারা জীবন এই বিশ্বাস আর পিতার নাম নিয়েই বাঁচে। আসল পিতা কে? এটা তো শুধু মা–ই জানে…”
“আই অ্যাম সরি…” বলেই সে বাড়ির দিকে ফিরে গেল।
-0-